Header Ads

ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়মাবলি।

 

 

ক.খেলার কোর্ট : কোর্টের মেঝে কাঠের হওয়া বাঞ্ছনীয়, তবে তা কোনভাবেই পিচ্ছিল হতে পারবে না। শাটল সাদা রঙের তাই কোর্টের মেঝে গাঢ় রঙের হবে কিন্তু চকচকে হতে পারবে না। মেঝের রং সাদা ব্যতীত হালকা রঙের হলে কোর্টের দাগ হবে কালো রঙের, অন্যথায় এর রং হবে সাদা।ব্যাডমিন্টন খেলা সিঙ্গেলস ও ডাবলসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। সিঙ্গেলস কোর্টে-দৈঘ্য ৪৪ফুট,প্রস্থ ১৭ ফুট। ডাবলস কোর্ট-দৈঘ্য ৪৪ফুট,প্রস্থ ২০ ফুট। কোর্টের দু'টি পার্শ্বরেখায় দুই মধ্যবিন্দু বরাবর ব্যাডমিন্টন নেট টাঙ্গানোর জন্য দু'টি খুঁটি বসবে। এই বিন্দু থেকে উভয় দিকে প্রান্তরেখার সমান্তরালে (৬ ফুট ৬ ইঞ্চি) দূরে লাইন টানতে হবে।একে শর্ট সার্ভিস লাইন বলে। আবার উভয় প্রান্তরেখা থেকে কোর্টের অভ্যন্তরে (২ ফুট ৬ ইঞ্চি)দূরে প্রান্তরেখার সমান্তরালে দু'টি লাইন টানতে হবে। একে দ্বৈত খেলার জন্য লং সার্ভিস লাইন বলে। শর্ট সার্ভিস লাইন দ্বারা বিভক্ত দু'দিকে দু'টি কোর্টের মাঝ বরাবর পার্শ্বরেখার সমান্তরালে দু'টি লাইন টেনে রাইট সার্ভিস কোর্ট ও লেফট সার্ভিস নামে দু'টি কোর্ট তৈরি করতে হবে। কোর্টের সকল দাগ ৪ সেন্টিমিটার চওড়া হবে।

ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্টের মাপ


খ. খেলার সরঞ্জাম :

 ১. পোস্ট বা খুঁটি : খুঁটির উচ্চতা মেঝে থেকে ৫ ফুট ১ ইঞ্চি হবে।


২. নেট : নেটের দৈঘ্য হবে ১৭ ফুট এবং প্রস্থ হবে ২ ফুট ৬ ইঞ্চি। মেঝে থেকে নেটের দু'পোস্টের দিকে ৫ ফুট ১ ইঞ্চি এবং মাঝখানে মেঝে থেকে ৫ ফুট। নেটের উপরের প্রান্ত ৩ ইঞ্চি চওড়া একটি সাদা ফিতা দিয়ে দু'দিকে মুড়ে দিতে হবে এবং এর মধ্য দিয়ে শক্ত দড়ি বা তার চলে গিয়ে দ'দিকের খুঁটির মাথায় যুক্ত হবে।


৩.র‍্যকেট : ব্যাডমিন্টন র‍্যকেটের হাতলের দৈঘ্য ২৬ ইঞ্চি। র‍্যাকেটের মাথায় নেট থাকে। নেট গুলো টানটান অবস্থায় থাকবে।


৪. শাটল : হাঁসের পালক দ্বারা শাটল কর্ক তৈরি হয়। সকল পালক সুতা দ্বারা গাথা থাকে। পিছনের রেখার উপর থেকে একজন খেলোয়াড় যখন খুব জোরে উপররে দিকে র‍্যাকেট দিয়ে শাটল কক আঘাত করে এবং সেই শাটল কক যদি বিপক্ষ কোর্টের লং সার্ভিস লাইনের কাছাকাছি গিয়ে পড়ে তখন এই শাটল কক মানসম্পন্ন বলে ধরা হয়।


ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়মাবলি 

১. টস :যে খেলোয়াড় বা দল টসে জয়লাভ করবে সে দল বা খেলোয়াড় সার্ভিস অথবা কোর্ট নেবে। 


২. পয়েন্ট :একক ও দ্বৈত খেলায় ২১ পয়েন্টে গেম সম্পন্ন  হবে। তবে দুই পয়েন্টের ব্যবধান থাকতে হবে। যেমন– ১৯–২১,২০–২২ পয়েন্ট এইভাবে। কিন্তু ৩০ পয়েন্টের ওপরে যেতে পারবে না। যে আগে ৩০ পয়েন্ট পাবে সেই বিজয়ী হবে। তৃতীয় সেটে ১১ পয়েন্ট হলে প্রান্ত বদল করতে হয়।


৩. সার্ভিস :মহিলা ও পুরুষ এককের খেলায় যে দোষ করবে সে সার্ভিস হারাবে। পুরুষ ও মহিলা ডাবলসের খেলায় যে দল প্রথম সার্ভিস করবে সে দল প্রথম বার সেকেন্ড হ্যান্ড সার্ভিস পাবে না। দোষ করলে বিপক্ষ দল সার্ভিস পাবে। সার্ভিস কোনাকুনি কোর্টে করতে হয়।


৪. সার্ভিস ফল্ট : নিম্নলিখিত কারণে সার্ভিস ফল্ট হয়–

ক. শাটলটি কোনাকুনি কোর্টে না পড়লে।


খ.সার্ভিসের সময় যে কোন পা শূন্যে উঠে গেলে।

 

গ. শাটলটি শর্ট বা লং সার্ভিস এরিয়ার মধ্যে পড়লে।


ঘ. শাটল কোর্টের বাইরে পড়লে।


ঙ. শাটলটি হাত থেকে ছেড়ে সার্ভিস না করলে।


চ. শাটলটি কোমরের উপরে তুলে সার্ভিস করলে।


ছ. শাটলটি যদি নেটে আটকে যায়। 


জ. সার্ভিস করার সময় কোর্টের দাগ স্পর্শ করলে।

 

ঝ. সার্ভিসকারী ইচ্ছাকৃতভাবে বিপক্ষ খেলোয়াড়কে ধোঁকা দিলে।


৫. লেট : খেলা চলাকালীন খেলার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন ঘটনা ঘটলে বা কোন দৈব দুর্ঘটনার কারণে স্বাভাবিক খেলা বন্ধ হলে আম্পায়ার লেট ঘোষণা করবে। যেমন– রিসিভার প্রস্তুত হওয়ার আগে সার্ভিস করলে কিংবা উভয় খেলোয়াড় একসাথে আইন ভঙ্গ করলে।

৬. ব্যাডমিন্টনে পাঁচটি বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়—

ক. পুরুষ একক, খ.পুরুষ দ্বৈত, গ. মহিলা একক, ঘ. মহিলা দ্বৈত, ঙ. মিশ্র দ্বৈত। 


৭. খেলা পরিচালনার জন্য একজন রেফারি, একজন আম্পায়ার, একজন স্কোরার ও দুই বা চারজন লাইন জাজ থাকবে।


ব্যাডমিন্টন খেলার কলাকৌশল :

১. গ্রিপ, ২. ফুটওয়ার্ক ৩. সার্ভিস, ৪. স্ট্রোক ও স্ম্যাসিং


১. গ্রিপ বা র‍্যাকেট ধরা : র‍্যাকেট ব্যবহারের প্রথম ও আবশ্যকীয় বিষয় হচ্ছে র‍্যাকেট ধরা। র‍্যাকেট ধরার ক্ষেত্রে কব্জির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফোরহ্যান্ড ও ব্যাকহ্যান্ড শর্ট নেওয়ার সময় গ্রিপের তারতম্য হয়ে থাকে। এজন্য গ্রিপকে দুভাগে ভাগ করা হয়েছে–

ক. ফোরহ্যান্ড গ্রিপ।

খ. ব্যাকহ্যান্ড গ্রিপ।


ক. ফোরহ্যান্ড গ্রিপ : একজন ডানহাতি খেলোয়াড় তার ডানদিক দিয়ে যে শর্টগুলো খেলে তা সবই ফোরহ্যান্ড গ্রিপের অন্তর্ভুক্ত।  ডানহাতের বৃদ্ধাআঙ্গুলি ও তর্জনী দিয়ে র‍্যাকেটের গোড়া এমন ভাবে ধরতে হবে যেন ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো দেখায়।


খ. ব্যাকহ্যান্ড গ্রিপ : ডানহাতি খেলোয়াড় তার শরীরের বামপাশে যে শর্টগুলো খেলে তা ব্যাকহান্ড গ্রিপের অবস্থান থেকে হাতটি বাম দিকে এমন ভাবে ঘুরাতে হবে যেন হাতের বুড়ো আঙ্গুল র‍্যাকেটের পিছনে আড়াআড়ি ও কোনাকুনি অবস্থানে থাকে। র‍্যকেটের হাতলের শেষ অংশটুকু হাতের তালুর মধ্যে থাকবে।

২. ফুটওয়ার্ক বা পায়ের কাজ : দ্রুত স্ট্রোক নেওয়ার জন্য চমৎকার  ফুটওয়ার্ক প্রয়োজন। স্ট্রোকের প্রয়োজনে সামনে, পিছনে, পাশে পা ফেলে, লাফ দিয়ে কিংবা দৌড়ে গিয়ে খেলতে গেলে ফুটওয়ার্ক ভালো হয়। " সার্ভিস করা বা রিসিভ করার সময় একজন ডানহাতি খেলোয়াড় কে বাম পা আগে, ডান পা সমান্য পিছনে এবং হাঁটু সামান্য ভেঙে দাড়াতে হয়। শরীরের ওজন পায়ের পাতার উপর থাকে। দু'পা ১৪ থেকে ১৮ ইঞ্চি দুরত্বে থাকবে। একে স্ট্যান্স বলে। " এছাড়া এক পা পিভটিং করে এবং অন্য পা স্থির রেখেও ফুটওয়ার্ক করা হয়।


৩. সার্ভিস : একজন ভালো খেলোয়াড়কে তিন ধরনের সার্ভিসের কৌশল জানতে হয়, যথা–

ক. হাইডিপ সার্ভিস, খ. লো-সার্ভিস, গ.ড্রাইভ সার্ভিস।


ক. হাইডিপ সার্ভিস : যখন খুব উঁচু দিয়ে শাটল খাড়া ভাবে বিপক্ষ কোর্টের লং সার্ভিস লাইনের কাছে ফেলা হয় তাকে হাই ডিপ সার্ভিস বলে। এর উচ্চতা অনেক সময় ২০ ফুট বা তারও বেশি হয়ে থাকে। একক খেলায় ফোরহ্যান্ড গ্রিপ ব্যবহার করে এই সার্ভিস করা হয়।


খ. লো-সার্ভিস : যখন শাটল খুব নিচু দিয়ে বিপক্ষ দলের সার্ভিস লাইনের কাছে কোন কোনায় ফেলা হয় তখন তাকে লো-সার্ভিস বলে।


গ.ড্রাইভ সার্ভিস : নিচু দিয়ে সজোরে শাটলটি পিছনে বা সার্ভিস গ্রহণকারীর ডান দিক বরাবর সার্ভিস করলে অনেক সময় ভালো ফল পাওয়া যায়—একে ড্রাইভ সার্ভিস বলে।


৪.স্ট্রোক ও স্মাশিং : 

মাথার উপর শট নেওয়ার কৌশলে র‍্যাকেট ধরা হাতটি পিছন থেকে সুইং করে উপরে উঠাতে হবে। যে মুহুর্তে র‍্যাকেট শাটল স্পর্শ করবে, তখনই হাতের কব্জি নিচের দিক করে সজোরে শাটল আঘাত করলে শাটলটি দ্রুত নিচের দিক নেমে যাবে এবং বিপক্ষের কোর্টে গিয়ে আছড়ে পড়বে। এ পদ্ধতিটিকে স্ম্যাশিং বলে।


No comments

Powered by Blogger.